পাইকগাছার শিববাটি মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর করায় খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তীব্র নিন্দা

পাইকগাছার শিববাটিতে শ্রী শ্রী রাস মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর করায় খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
৪৮ ঘন্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে কঠোর কর্মসূচী

গত ১২ জানুয়ারি সোমবার কে বা কারা পাইকগাছা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের  শিববাটিতে শ্রী শ্রী রাস মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর করে রাধা-গোবিন্দের হাতে জুতা ঝুলিয়ে রাখে। ঐ দিন দুষ্কৃতকারীরা কখন প্রতিমা ভাঙে তা নির্দ্দিষ্ট করা যায়নি। প্রতিদিনের ন্যায় মা-বোনেরা সন্ধ্যায় সন্ধ্যা আরতী দিতে যেয়ে দেখেন প্রতিমা ভাংচুর করা হয়েছে। অথচ পূর্বের দিন অর্থাৎ ১১ জানুয়ারী রবিবার সন্ধ্যায় প্রতিমা অক্ষত অবস্থায় ছিল। উক্ত মন্দিরটি ১৯৯৭ সালে শিবসা নদীর তীরে প্রাতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১২ জানুয়ারীর আগ পর্যন্ত কেউ কখনো মন্দিরের প্রতিমা কিংবা বিগ্রহে হাত দেয়নি। এমনকি মন্দির সব সময় সুরক্ষিত অবস্থায় ছিলো। সকলের ধারনা ১২ জানুয়ারি দিনের বেলায় যে কোন সময় কিছু দুষ্কৃতকারী এহেন গর্হিত কাজ করেছে। উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও দোষীদের গ্রেফতার পূর্বক আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন খুলনা জেলা পূজা উযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ। যখন জাতীয় সংসদ নির্বাাচন সন্নিকটে ঠিক তখনই দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ভন্ডুল করার জন্য একটি কুচক্রীমহল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা করছে। নেতৃবৃন্দ মনে করেন স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের মধ্য দিয়ে অর্জিত যে বাংলাদেশ, সেই বাংলাদেশের ভাবমুর্তিকে নষ্ট করার জন্য একটি গোষ্টি সর্বদা তৎপর রয়েছে। প্রতি বছর উক্ত মন্দিরের উদ্যোগে আরও ৬টি মন্দিরের সমন্বয়ে রাস উৎসব পালিত হয়। উৎসব শেষে বিগ্রহ পুরো একটি বছর মন্দিরে রাখা হয়। সে জন্য মা বোনেরা প্রতিদিন  সকাল-সন্ধ্যায় পূজা অর্চনাদী ও নাম সংকীত্তন করেন। রাস উৎসব শুরুর ঠিক আগ মুহুর্তে উক্ত বিগ্রহ বিসর্জন দিয়ে পুনরায় নতুন প্রতিমা স্থাপন করেন। এ অবস্থার মধ্যদিয়ে গত ১৯৯৭ সাল থেকে চলে আসছে। হঠাৎ করে একটি কুচক্রী মহলের দ্বারা মন্দিরের বিগ্রহ ভাংচুরের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয় দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নষ্টের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরীতে একটি গোষ্টি সদা তৎপর রয়েছে। এহেন ঘৃণ্য কাজের প্রতিবাদ জানিয়ে অদ্য সকাল ১০.০০ ঘটিকায় শ্রী শ্রী রাস মন্দিরের উদ্যোগে সরল কেন্দ্রীয় মন্দির, বাতিখালী সার্বজনীন মন্দির, বাজার সার্বজনীন মন্দির, শিব বাড়ী পূর্বপাড়া মন্দির ও সরল দাস পাড়া মন্দিরের সমন্বয়ে প্রতিবাদ সভা মন্দির কমিটির সভাপতি সন্তোষ সরদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক হরেন্দ্র নাথ সানার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক কৃষ্ণ পদ মন্ডল, সদস্য সচিব হিমাদ্রী শেখর দে, পৌরসভা পূজা পািরষদের সভাপতি বাবু রাম মন্ডল ও উক্ত ৬টি মন্দির কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ। মন্দিরের বিগ্রহ ভাংচুরকারী দুষ্কৃতকারীদের  আগামী ৪৮ ঘন্টার ভিতর গ্রেফতার করা না হলে কঠোর কর্মসূচীর হুশিয়ারী দেন খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিদাতা নেতৃবৃন্দ হলেন- কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা বিজয় কুমার ঘোষ, খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কৃষ্ণ পদ দাশ, সাধারণ সম্পাদক বিমান সাহা, সহ-সভাপতি রবীন্দ্র নাথ দত্ত, রতন কুমার মিত্র, চম্পক কুমার পাল, অধ্যক্ষ অজিত কুমার বিশ্বাস, প্রভাষক গৌর চন্দ্র ঢালী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ তমাল কান্তি ঘোষ, সাধন কুমার ভদ্র, অনিমেষ সরকার রিন্টু, কোষাধ্যক্ষ বিভূতি ভূষন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক অমিতাভ ঘোষ, দপ্তর সম্পাদক সুমন দাস, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক অধ্যাপক অজিত কুমার হালদার, শিক্ষা সম্পাদক বিমান রায়, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশীষ কুমার সিনহা, সমাজকল্যাণ সম্পাদক অমর কুমার দাস, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বিষয়ক সম্পাদক দীপঙ্কর মন্ডল লিটন, আইন সম্পাদক এ্যাডঃ পবিত্র কুমার বিশ্বাস, মহিলা সম্পাদিকা শোভা রানী হালদার, পূজা বিষয়ক সম্পাদক প্রশান্ত কুমার মন্ডল, উপদেষ্টা শিমুল কুমার দাস, গনেশ চন্দ্র মন্ডল, প্রবীর কুমার রায়, সাগর সাহা, সমীর চক্রবর্তী, সাংবাদিক দিলিপ কুমার বর্মন, দেবাশীষ কুমার দে, গোপাল চন্দ্র বনিক, আশীষ কুমার সাহা, অধ্যাপক রমেন্দ্র নাথ সরদার, সুব্রত কুমার বকসি, সুভাশীষ চক্রবর্তী শুভ, মাধুরী মন্ডল, বিশ্বনাথ সাহা, অরবিন্দ মহলদার, ইঞ্জিঃ উজ্জ্বল কুমার পাল,  অনামিকা দাস পপি, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ্বাজত পাল, সহ দপ্তর সম্পাদক অতনুকর বাপ্পা, সহ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক দীপা বিশ্বাস, সহ-শিক্ষা সম্পাদক বিপুল রায় চৌধুরী, সহ-গণসংযোগ সম্পাদক অলোক শীল, সহ-পূজা বিষয়ক সম্পাদক দীপংকর সাহা বাবু, কার্যনির্বাহী সদস্য শেখর রঞ্জন দেবনাথ, এ্যাডঃ পংকজ কুমার সাহা, অলোক মজুমদার, গোপাল চন্দ্র সাহা, এ্যাডঃ হিমাংশু চক্রবর্তী, চেয়ারম্যান কৃষ্ণ মেনন রায়, নিত্যানন্দ সাহা নিতাই, পল্লব কুমার বিশ্বাস, রনজিৎ বোস, সুশান্ত অধিকারী, অরবিন্দু মন্ডল, গোবিন্দ দত্ত, লিটন বিশ্বাস খোকন, তরুণ সরকার, তপন চক্রবর্তী, শংকর সাহা, জগদীশ চন্দ্র দে, কৃষ্ণেন্দু দত্ত, ব্রজেন্দ্র নাথ মন্ডল, সুজন মন্ডল, সুমন দে, মিঠুন কুমার দে মিঠু, রঞ্জন কুমার সাহা, লিটন বিশ্বাস, নিভানন রায়, মানবেন্দ্র মন্ডল, মৃত্যুঞ্জয় সরদার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। খবরঃ বিজ্ঞপ্তির