খুলনা মহানগরী এলাকায় চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং উৎস পর্যায়ে চিকিৎসা বর্জ্য পৃথকীকরণ বিষয়ে স্টেকহোল্ডারদের সাথে এক মতবিনিময় সভা আজ মঙ্গলবার বিকেলে নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
উল্লেখ্য, ইউনিসেফ-এর সহযোগিতায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। উল্লিখিত কার্যক্রমের আওতায় মহানগরীর হাসপাতাল, কিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসমূহের চিকিৎসা বর্জ্যরে নিরাপদ সংগ্রহ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবেশসম্মতভাবে চুড়ান্ত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি সমন্বিত চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা হচ্ছে। এ ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য উৎস পর্যায়ে চিকিৎসা বর্জ্যরে যথাযথ পৃথকীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা এর আওতায় বাধ্যতামূলক। এ প্রেক্ষিতে চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুবিধার উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ও করণীয় এবং উৎস পর্যায়ে চিকিৎসা বর্জ্য পৃথকীকরণের গুরুত্ব বিষয়ে এ অবহিকরণ ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় কেসিসি প্রশাসক বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন ও মেডিকেল বর্জ্যরে সঠিক ব্যবস্থাপনা আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এখানে আমাদের সকলেরই কিছু না কিছু দুর্বলতা আছে। সেই দুর্বলতা কাটিয়ে আমরা একটি ভালো ব্যবস্থাপনায় যেতে চাই। খুলনাকে একটি স্বাস্থ্যকর শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও এ মহানগরীর সকল সেক্টর সুন্দর ব্যবস্থাপনায় আনার নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া এটা সম্ভব নয় বলে প্রশাসক উল্লেখ করেন।
সভায় জানানো হয়, বিভাগের ৮ থেকে ১০টি জেলার মানুষ এ শহরে চিকিৎসা নিতে আসে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরবাসীসহ সকলে উপকৃত হবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পটি টেকসই হওয়া এবং সুষ্ঠূভাবে পরিচালনা করা অত্যন্ত জরুরি। প্রশাসক নির্মাণাধীন প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে স্টেকহোল্ডারদের সম্পৃক্ত করে একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হবে বলে জানান। সভায় প্রশাসক উপস্থিত সকলকে সাধ্যমত বৃক্ষরোপণের আহবান জানান।
কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্বাস্থ্যের বিভাগীয় পরিচালক ডা. শেখ মো: মোশাররফ হোসেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সুজাত আহমেদ, জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রফিকুল ইসলাম, কেসিসি’র সচিব মো: রেজা রশীদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম, আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানম ও ইউনিসেফ-খুলনার চীফ মো: কাওসার আহমেদ। সভা পরিচালনা করেন প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো: আনিসুর রহমান। মহানগরীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, কিনিক ও ডায়গনেস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধিগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে কেসিসি প্রশাসক ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-খুলনা সিটি ইউনিটের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরীর আজম খান সরকারি কমার্স কলেজে রেড ক্রস রেড ক্রিসেন্ট মৌলিক ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক প্রশিক্ষণ ২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। কলেজ রেড ক্রিসেন্ট টীম এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কেসিসি প্রশাসক বলেন, যে কোন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষকে সহযোগিতা করার জন্য রেড ক্রিসেন্ট সদস্যদের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা জরুরি। প্রশিক্ষণ থাকলে দুর্যোগ কবলিত মানুষকে উদ্ধার, উদ্ধার পরবর্তী প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান ও দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে স্থানান্তরসহ দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্বাসন কাজগুলি সহজে দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। প্রশাসক প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন এবং নিজেরা প্রশিক্ষণ গ্রহণের সাথে সাথে অন্যদেরও মানবিক শিক্ষা প্রদানের জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণণার্থীদের প্রতি আহবান জানান।
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: রফিকুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মো: নজরুল ইসলাম, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য শেখ সাদিকুল ইসলাম সাদী ও সিটি ইউনিটের উপপরিচালক রেক্সোনা খাতুন। অন্যান্যের মধ্যে কলেজের শিক্ষার্থী শেখ শামসাদ হোসেন আবিদ, মো: আরিফুল ইসলাম, শেখ শাহরিয়ার নাফিস, ইশিকা ইয়াসমিন প্রমুখ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন সিটি যুব ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক প্রফেসর ড. নূর আলম। খবরঃ বিজ্ঞপ্তির