খুলনায় আপসের উদ্যোগে রেজিলিয়েন্ট কমিউনিটি সংলাপ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষিজমির সংকোচন এবং খাদ্য নিরাপত্তার ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই ও উদ্ভাবনী কৃষি প্রযুক্তির প্রসারের লক্ষ্যে আপস যুব সংগঠন-এর উদ্যোগে এবং দ্য আর্থ সোসাইটি-এর সহযোগিতায় গ্রীন ভয়েস প্রকল্প-এর আওতায় বাস্তবায়িত ইকোফ্লট এগ্রো টেক প্রকল্প-এর অংশ হিসেবে আজ খুলনা প্রেসক্লাবের সেমিনার কক্ষে “নগরায়নে হাইড্রোপনিক্স চাষাবাদের সম্ভাবনা, নারী ক্ষমতায়নে হাইড্রোপনিক্সভিত্তিক বাজারজাতকরণ এবং খুলনা অঞ্চলে ভাসমান চাষাবাদের ভবিষ্যৎ” শীর্ষক একটি রেজিলিয়েন্ট কমিউনিটি ডায়লগ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুরাইয়া সিদ্দীকা, উপপরিচালক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. মো. হাফিজুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রকৌশলী সাইফুল্লাহ হক তানভির। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহ্ জিয়াউর রহমান স্বাধীন, প্রধান উপদেষ্টা, আপস যুব সংগঠন এবং তাসনীয়া কবীর, প্রতিনিধি, দ্য আর্থ সোসাইটি।

অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন ও সংলাপ পরিচালনা করেন মো: রেদওয়ানুল ইসলাম রুহান, নির্বাহী প্রধান, আপস যুব সংগঠন। তিনি তাঁর উপস্থাপনায় নগর কৃষিতে হাইড্রোপনিক্স প্রযুক্তির সম্ভাবনা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ভাসমান চাষাবাদের কার্যকারিতা, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং তরুণদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার বিকাশে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন ও স্থানীয় পর্যায়ে অংশীদারিত্বের গুরুত্বও তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুরাইয়া সিদ্দীকা বলেন, “নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি উদ্যোগ সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। হাইড্রোপনিক্স ও ভাসমান চাষাবাদ নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন।”

বিশেষ অতিথি ডা. মো. হাফিজুর রহমান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “নগর এলাকায় সীমিত জায়গায় অধিক উৎপাদনের জন্য হাইড্রোপনিক্স একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী প্রযুক্তি। গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে এ খাতকে আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব।”

প্রকৌশলী সাইফুল্লাহ হক তানভির তাঁর বক্তব্যে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং তরুণদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার বিকাশে গুরুত্বারোপ করেন। শাহ্ জিয়াউর রহমান স্বাধীন বলেন, ইকোফ্লট এগ্রো টেক প্রকল্পের মাধ্যমে টেকসই কৃষি, যুব নেতৃত্ব বিকাশ এবং জলবায়ু সহনশীল কমিউনিটি গড়ে তুলতে ধারাবাহিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, কৃষি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, নারী উদ্যোক্তা, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, কৃষি উদ্যোক্তা এবং বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী কৃষি উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।

আয়োজকরা জানান, ইকোফ্লট এগ্রো টেক প্রকল্প-এর মাধ্যমে খুলনা অঞ্চলে হাইড্রোপনিক্স ও ভাসমান কৃষি প্রযুক্তির প্রসার, যুব ও নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে ধারাবাহিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে একটি টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। খবরঃ বিজ্ঞপ্তির