ফাইল ছবি।
নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আদালতের রায় বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া ‘সন্ত্রাসী’ (Terrorist) বলে আখ্যায়িত করা বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে আইনগত প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে বক্তব্যের ধরন, প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য এবং বক্তব্যের সত্যতা বিবেচনা করতে হবে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পার্থক্য রয়েছে:
অপরাধের অভিযোগ: কারও বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা যায়, তবে তা তদন্ত ও বিচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।
অপরাধী হিসেবে ঘোষণা: কাউকে চূড়ান্তভাবে সন্ত্রাসী বা অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা এবং তার বিরুদ্ধে আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়।
রাজনৈতিক বক্তব্য: রাজনৈতিক সমালোচনা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে; কিন্তু সেই স্বাধীনতা ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের সীমাহীন অধিকার নেই।
বাংলাদেশের কোন কোন আইন প্রযোজ্য?
১. দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪৯৯ ও ৫০০ ধারা — মানহানি
৪৯৯ ধারা অনুযায়ী, কারও সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে বা সুনাম ক্ষুণ্ন হবে জেনেও মিথ্যা বা ক্ষতিকর অপবাদ প্রচার মানহানি হতে পারে।
৫০০ ধারায় মানহানির শাস্তি সর্বোচ্চ দুই বছর সাধারণ কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড।
তবে সত্যতা, জনস্বার্থ ও সদবিশ্বাসের মতো আইনি ব্যতিক্রমও রয়েছে।
Laws of Bangladesh+1
২. সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ — মতপ্রকাশের স্বাধীনতা
সংবিধান নাগরিকের মতপ্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। তবে মানহানি, জনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার মতো বিষয়ে আইনসম্মত সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।
FUNDAMENTAL RIGHTS+1
৩. সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯
এই আইনের ১৮ ধারায় সরকার যুক্তিসংগত কারণের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি বা সত্তাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হিসেবে তালিকাভুক্ত করার ক্ষমতা রাখে। অর্থাৎ, আনুষ্ঠানিক তালিকাভুক্তির জন্যও আইনে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে।
আইনকোষ+1
তাহলে আইনগত অবস্থান কী?
কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে রাজনৈতিক বক্তব্যে ‘সন্ত্রাসী’ বা ‘টেররিস্ট’ বলা মাত্রই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয় না। কিন্তু প্রমাণহীন, অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সুনামহানিকর বক্তব্য দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারার আওতায় মানহানির প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
এখানে মনে রাখতে হবে, অভিযোগ থাকা, অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এবং কাউকে রাজনৈতিকভাবে সন্ত্রাসী আখ্যা দেওয়া—তিনটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।
আমার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
আপনি কি সম্প্রতি বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী বা সরকারি দায়িত্বশীল ব্যক্তির বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরাসরি ‘সন্ত্রাসী’ বা ‘টেররিস্ট’ আখ্যা দেওয়ার প্রসঙ্গটি জানতে চাইছেন?
যদি তাই হয়, বক্তব্যটির সুনির্দিষ্ট শব্দ ধরে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে সেটি মানহানি, আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক বক্তব্য, নাকি ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রশ্ন তৈরি করে—তা বিশ্লেষণ করে দিতে পারব।