নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে কেসিসিকে ১০% গ্রিন হোল্ডিং ট্যাক্স ছাড়ের দাবি আপস যুব সংগঠনের

খুলনা, ৩১ অক্টোবর ২০২৬: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ নিশ্চিত করতে ‘সবুজ ছাদ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, টেকসই খুলনার অঙ্গীকার’ প্রতিপাদ্যে খুলনায় জেলা পর্যায়ের নীতিগত সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংলাপে খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার, ছাদবাগান ও পরিবেশবান্ধব ভবন গড়ে তুলতে হোল্ডিং ট্যাক্সে ১০ শতাংশ গ্রিন ট্যাক্স ছাড় বা আর্থিক প্রণোদনা চালুর দাবি উত্থাপন করা হয়। এ দাবির পক্ষে জনসমর্থন তৈরির লক্ষ্যে অংশগ্রহণকারীদের স্বাক্ষরও সংগ্রহ করা হয়।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খুলনা প্রেস ক্লাবে আপস যুব সংগঠনের আয়োজনে এবং দ্য আর্থ সোসাইটির সহযোগিতায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় প্ল্যাটফর্ম ‘Youth for Care’-এর মাধ্যমে দেশব্যাপী জেলা পর্যায়ে নীতিগত সংলাপ আয়োজনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়।

সংলাপের মূল উদ্দেশ্য ছিল খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় আবাসিক ও অন্যান্য উপযুক্ত ভবনে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং ছাদবাগান ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তুলতে হোল্ডিং ট্যাক্সে আর্থিক প্রণোদনা প্রবর্তনের একটি বাস্তবসম্মত নীতিগত কাঠামো প্রস্তাব করা।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, খুলনা জলবায়ু পরিবর্তনের নানা ঝুঁকির মুখোমুখি। নগরীতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বায়ুদূষণ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ছাদবাগান, সৌরবিদ্যুৎ, জ্বালানি দক্ষতা এবং পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণকে উৎসাহিত করতে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে কার্যকর আর্থিক ও নীতিগত প্রণোদনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সংলাপে হোল্ডিং ট্যাক্সে ১০ শতাংশ গ্রিন ট্যাক্স ছাড়ের একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এ দাবির পক্ষে জনসমর্থন তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে উপস্থিত অংশীজনদের মধ্যে স্বাক্ষর সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। প্রস্তাবিত প্রণোদনা কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, কোন ধরনের ভবন বা উদ্যোগ এ সুবিধার আওতায় আসতে পারে এবং সিটি কর্পোরেশনের রাজস্বের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব কী হতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ ছাড়া ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, ছাদবাগান তৈরি, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব ভবন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে গ্রিন হোল্ডিং ট্যাক্স প্রণোদনার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, শুধু সচেতনতামূলক কার্যক্রম নয়, বরং আর্থিক প্রণোদনা ও কার্যকর স্থানীয় নীতিমালা থাকলে বাড়ির মালিক ও ভবন ব্যবহারকারীরা পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণে আরও উৎসাহিত হবেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক নেতা শেখ আশরাফউজ্জামান, সহকারী শিক্ষক মো. ওবায়দুল ইসলাম, সংবাদকর্মী মোতাহার রহমান বাবু, শিক্ষক নেত্রী ইরিনা আক্তার, নাগরিক ফোরামের নেত্রী বনানী সুলতানা ঝুমু, উদ্যোক্তা তানজীলা খাতুন, সোনালিদিন প্রতিবন্ধী সংস্থার সভাপতি ইসরাত আরা হীরা এবং প্রান্তজ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইশতিয়াক মাহমুদ। এ ছাড়া সুশীল সমাজ, বাড়ির মালিক, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী, যুব প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা সংলাপে অংশগ্রহণ করেন।

আপস যুব সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান রেদওয়ানুল রুহান বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর ও উদ্ভাবনী নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই। আমরা চাই, খুলনা সিটি কর্পোরেশন এমন একটি গ্রিন হোল্ডিং ট্যাক্স প্রণোদনা ব্যবস্থা বিবেচনা করুক, যার মাধ্যমে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, ছাদবাগান এবং পরিবেশবান্ধব ভবন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাড়ির মালিকরা আর্থিকভাবে উৎসাহিত হবেন। ১০ শতাংশ গ্রিন ট্যাক্স ছাড়ের প্রস্তাবটি এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি নীতিগত উদ্যোগ। আমরা বিশ্বাস করি, নাগরিক অংশগ্রহণ ও স্থানীয় সরকারের সহযোগিতায় খুলনাকে আরও সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও জলবায়ু সহনশীল নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।”

সংলাপে প্রাপ্ত মতামত, অভিজ্ঞতা ও সুপারিশের ভিত্তিতে একটি প্রমাণভিত্তিক নীতিপ্রস্তাব প্রস্তুত করে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি এ বিষয়ে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, অংশীজনদের সম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নীতিগত অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আয়োজকরা মনে করেন, ‘সবুজ ছাদ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, টেকসই খুলনার অঙ্গীকার’ কেবল একটি প্রতিপাদ্য নয়; বরং এটি একটি পরিবেশবান্ধব, জ্বালানি সাশ্রয়ী ও জলবায়ু সহনশীল নগর গড়ে তোলার সম্মিলিত প্রত্যয়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে খুলনা সিটি কর্পোরেশন, নাগরিক সমাজ, বাড়ির মালিক, যুবসমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। খবরঃ বিজ্ঞপ্তির