নিউজ ডেস্কঃ
“মৃত্যুদণ্ড, মিথ্যা মামলা ও সাজানো বিচার আমাকে ভয় দেখাতে পারে না,” হাসিনা বলেন। তিনি মৃত্যুদণ্ডকে “একটি অবৈধ, অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রক্রিয়ার অংশ” বলেও অভিহিত করেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার বলেছেন, তিনি গত দুই বছরে তাঁর দেশকে দুর্ভোগ পোহাতে দেখেছেন।
২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়ার একটি অনুষ্ঠানে দূর থেকে যোগ দিয়ে জনসমক্ষে কথা বলতে গিয়ে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ও তৎপরবর্তী সময়ে নিহত তাঁর বাবা, পরিবার এবং দেশবাসীকে স্মরণ করতে গিয়ে হাসিনার কণ্ঠ বারবার কেঁপে ওঠে।
তিনি অভিযোগ করেছেন যে “সংগঠিত গোষ্ঠীগুলো” শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দাবিগুলোকে একটি “হিংসাত্মক রাজনৈতিক হাতিয়ারে” পরিণত করেছে এবং দাবি করেছেন যে আন্দোলনটি তার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রূপ নিয়েছে।
ছাত্রদের নেতৃত্বে হওয়া এক গণঅভ্যুত্থানে তাঁর ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটার পর, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও এসএস এফের উপস্থিতিতে ভারতে চলে যান। যাওয়ার পর থেকে ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা ভারতে নির্বাসনে রয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী দমনপীড়নের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে গত বছর একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই সহিংসতায় প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ হাসিনার আওয়ামী লীগ দলকেও নিষিদ্ধ করেছে এবং তিনি আরও একাধিক ফৌজদারি মামলার সম্মুখীন হয়েছেন।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল চলতি বছরের শুরুতে এমন একটি নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসে, যেটিতে হাসিনার দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তার পরিকল্পিত প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে নতুন সরকার একটি আইনি অবস্থান নিয়েছে এবং জোর দিয়ে বলেছে যে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তথ্যঃ হিন্দুস্তান টাইমস ।