খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেডিএ চেয়ারম্যান এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি সাধারণ আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি, গুম, খুন, দমন-পীড়ন এবং মানুষের ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনগণের এক সম্মিলিত ও বজ্রকঠিন প্রতিরোধ। এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে হাজারো শহিদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশের মানুষ আজ তাদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা নতুনভাবে প্রতিষ্ঠার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে জুলাই অভ্যুত্থানের বীর শহিদদের স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা ও স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, বর্তমান সরকার শহিদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। কোনো অবস্থাতেই শহিদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হতে পারে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই বিপ্লবী চেতনা অনাগত ভবিষ্যতের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের মূল প্রেরণা হয়ে থাকবে।
স্মরণসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবি পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমাদেরকে জুলাই-আগস্টের সেই অবিনাশী চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। কোনো অপশক্তি যেন এ দেশে আর মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে, সে ব্যাপারে ছাত্রদলের প্রতিটি কর্মীকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ থাকতে হবে। ৭১ ও ২৪-এর পরাজিত শক্তিরা আবারও দেশকে অস্থিতিশীল করার নানামুখী পায়তারা করছে। যেখানেই এই অপশক্তির উত্থান ঘটবে, সেখানেই ছাত্রদলকে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা মো. তাজিম বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাসুদ পারভেজ বাবু, চৌধুরী হাসানুর রশীদ মিরাজ, সাংবাদিক নেতা মিজানুর রহমান মিলটন, রাশেদুল ইসলাম।
খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান বিপ্লব ও খুলনা জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব খাঁন ইসমাইল হোসেনের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোঃ আবু জাফর।