ফাইল ছবি।
২০২৫ সালে খুলনা বিভাগের প্রতি ৫ জন বাসিন্দার মধ্যে ১ জনের কাছে ব্র্যাকের সেবা পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আর্থিক সেবায় অন্তর্ভুক্তি, দুর্যোগ ও সঙ্কট মোকাবিলা, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন (ওয়াশ), জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, দুর্যোগ ও সংকট ব্যবস্থাপনা, অভিবাসন এবং দক্ষতা উন্নয়নসহ নানাক্ষেত্রে এসব সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা বিভাগে ব্র্যাকের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে মাল্টিপারপাস হলরুমে এই আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিভাগটিতে কর্মরত ব্র্যাকের ৭ হাজার ৭৮৮ জন কর্মী এই কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করছেন, এদের মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ নারী ও ০ দশমিক ৪১ শতাংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছে। এই বিভাগে সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির ৪২৯টি এবং সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগের ৪৪ টি কার্যালয়ের মাধ্যমে এসব কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
এই আয়োজনে ব্র্যাকের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম, আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা এবং সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো তুলে ধরেন ব্র্যাকের উর্ধ্বতন পরিচালক মো. আকরামুল ইসলাম।
তিনি বলেন, বিগত ২০২৫ সালটি বৈশ্বিক ও জাতীয় উভয় প্রেক্ষাপটেই ছিল নানাবিধ চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনায় ভরপুর। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, অর্থনৈতিক ওঠানামা এবং সামাজিক অসমতা দূরীকরণের মতো বড় বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ব্র্যাক সবসময়ই মানুষের পাশে থেকেছে। ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ-এর দেখানো পথ অনুসরণ করে, আমরা কেবল জরুরি ত্রাণ বা সাময়িক সহায়তাতেই সীমাবদ্ধ থাকিনি; বরং টেকসই উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছি।
অনুষ্ঠানে খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আবদুল্লাহ হারুন তাঁর বক্তব্যে বলেন, ব্র্যাক এখন শুধু একটা এনজিও নয়, এটি একটি ইনস্টিটিউশন’ অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্র্যাককে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করার জন্য তিনি অনুরোধ করেন।
অনুষ্ঠানে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ব্র্যাককে মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের অনুরোধ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের পরিচালকসহ স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
ব্র্যাকের পক্ষ থেকে জানানো হয় ২০২৫ সালে খুলনা বিভাগে ১২ হাজার ৪৪১ টি অতি-দরিদ্র পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৬ হাজার ৩৮৬ টি পরিবার সফলভাবে অতিদারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছে। পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় দুর্যোগ প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের আওতায় এসেছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮১১ টি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার। এছাড়া মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় জরুরী সহায়তা পেয়েছে ২ হাজার ৪০০ টি পরিবার। ব্র্যাকের পক্ষ থেকে আর্থিক সেবার আওতায় এসেছেন খুলনা বিভাগের প্রায় ১৯ লাখ মানুষ। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের ঋণগ্রহীতার মাঝে প্রায় ৯১ শতাংশই নারী।
স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক সেবা এবং সচেতনতামূলক বার্তার আওতায় এসেছেন ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৮১ জন। এই বিভাগেই ১ লাখ ৩০ হাজার ১৬৫ টি গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবা দেওয়া হয়েছে, এবং ৩২ হাজার ১০৭ টি নিরাপদ প্রসব নিশ্চিতে সহায়তা করেছে ব্র্যাক। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষার আওতায় এসেছেন ৮১ হাজার ৬৫৯ জন।
এছাড়াও, ৫২ হাজার ৪ জন মানুষ অভিবাসন বিষয়ক সচেতনতা, মনোসামাজিক সহায়তা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসন সেবা পেয়েছেন। সচেতনতামূলক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষন পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫২৮ জন। যক্ষ্মা পরীক্ষার আওতায় এসেছেন ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৭১ জন। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং বাল্যবিবাহ রোধে আইনী সহায়তা পেয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৬১ জন। ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির আওতায় খুলনা বিভাগে ৩৬ টি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা করছে যেখানে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯০০ জন। এদের মধ্যে ৫৫ দশমিক ৪ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী এবং ৩ দশমিক ৭ শতাংশ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। একইভাবে নারী ও পুরুষের সমঅধিকারসহ নানা কার্যক্রমের তথ্য জানানো হয়। খবরঃ বিজ্ঞপ্তির