মেয়াদ শেষের আগেই ‘লাল পাসপোর্ট’ ছাড়ছেন ইউনুস সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা

নিউজ ডেস্কঃ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ, স্বরাষ্ট্র ও তথ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ ছয় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টারা

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নিজেদের কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট জমা দিচ্ছেন । পাশাপাশি তারা সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন জানিয়েছেন।

 

 বিশ্লসকরা ধারনা করছেন, ক্ষমতা হস্তান্তরের পরবর্তী সময়ে বিদেশ ভ্রমণে আইনি বা দাপ্তরিক জটিলতা এড়াতেই এই ব্যতিক্রমী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ নিয়েছেন তারা।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ইতোমধ্যে কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। অনলাইন।

তালিকায় আরও রয়েছেন- প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। এছাড়া, সরকারের পূর্ণাঙ্গ সচিব ও হাইকোর্টের কয়েকজন বিচারকও তাদের লাল পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কূটনৈতিক পাসপোর্টের মেয়াদ থাকে পাঁচ বছর। তবে, পদত্যাগ বা দায়িত্ব পালন শেষ হওয়ার পর এই পাসপোর্ট হস্তান্তর করা বাধ্যতামূলক।

সরকারের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, দুই দিন আগে হোক বা পরে, এটা তাদের ছাড়তে হবে। নিয়ম অনুযায়ী, যে বা যারা কূটনৈতিক পাসপোর্ট পেয়েছেন, দায়িত্ব শেষ হলেই তাদের সেটা হস্তান্তর করতে হবে। তবে, এটা হস্তান্তর করার নির্দিষ্ট কোনো সময় বেঁধে দেওয়া নেই। এখন যারা উপদেষ্টা আছেন তিনি আজ পাঠালে কালই তার পাসপোর্ট হয়ে যাবে। কিন্তু উনি যখন উপদেষ্টা থাকবেন না, তখন কিন্তু আর গ্যারান্টি নেই। পাসপোর্ট অফিস তাকে কত দিনে পাসপোর্ট দেবে, সেটা কিন্তু বড় একটা বিষয়!

 

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘১২ তারিখের (ফেব্রুয়ারি) পর উনারা যখন আর দায়িত্বে থাকবেন না, তখন এয়ারপোর্ট ট্রাভেল করতে গেলে ইমিগ্রেশন এনওসি (অনাপত্তি সনদ) চাইবে। এনওসি না হলে তো অফিশিয়াল পাসপোর্টে যেতে পারবেন না। এ কারণে উনারা প্রাইভেট পাসপোর্ট করছেন। দায়িত্ব ছাড়ার পরপরই উনাদের কারও কারও কোনো না কোনো দেশে যাওয়া লাগতে পারে। যারা মনে করছেন শিগগিরই তাদের ভ্রমণ করতে হতে পারে, তারা কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছাড়ছেন।’