সরকারি কর্মচারীরা ‘আন্দোলন’ করলে বাধ্যতামূলক অবসর, অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার।
তাতে বলা হয়েছে –
সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এর দ্বিতীয় সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব হাফিজ আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত অধ্যাদেশটি জারি করা হয় বুধবার। যেটি সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫ নামে অভিহিত হবে।
অধ্যাদেশে বলা হয়, ‘যেহেতু নিম্নবর্ণিত উদ্দেশ্যসমূহ পূরণকল্পে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৫৭ নং আইন) এর অধিকতর সংশোধন সমীচীন ও প্রয়োজনীয় এবং যেহেতু সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় আছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট তা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান আছে; সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করলেন।’ এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
উক্ত বিষয় এ
-সরকারি কর্মচারীদের ‘আন্দোলন’ করার “নাগরিক অধিকার” বাংলাদেশে সংবিধান ও আইনে কি বলছে?
বিস্তারিত:
সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা, বিবেক ও বাক স্বাধীনতা এবং সমাবেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা আন্দোলনে অংশ নিতে পারবে না।
এই বিধিমালার কারণে সরকারি কর্মচারীদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার থাকলেও, আন্দোলনের অধিকার সীমিত।
যদি কোনো কর্মচারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আন্দোলনে অংশ নেয়, তবে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
অন্যদিকে, কোনো কর্মচারী যদি তার ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করতে চায়, তবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তা করতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ( সাধারণ জনগণ)
বলা হয়েছে: সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় আছে। তাই
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করলেন।’ এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
“গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ও মহামান্য রাস্ট্রপতি ব্যাতির রাস্ট্রীয় কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া অসম্ভব। “
সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী’ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ও মহামান্য রাস্ট্রপতির অধীনস্থ।
তাহলে কেন দেশের নাজুক পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব হচ্ছে না?(সাধারণ মানুষের প্রশ্ন)
আমাদের সকলের জ্ঞাতার্থে স্মরণ রাখা প্রয়োজন – ” ইউনুস সরকারের(পরক্ষ সহায়তায়) জাতীয় নাগরিক পাটি’ (এনসিপি) ” জুলাই সনদ” ঘোষণার কথা কি বাংলাদেশের মানুষ ভুলে গিয়েছেন?
রাস্ট্র চলবে সংবিধান ও মহামান্য রাস্ট্রপতির প্রদত্ত ক্ষমতাবলে।
জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, তবে ইউনুসের সরকার “এনসিপির জুলাই সনদ” কিভাবে অনুমোদন দিবেন?
এখনকার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি কি সেই “জুলাই সনদ” এর প্রতি সংহতি জানিয়ে স্বাক্ষর করবেন?