বাংলাদেশে (জুলাই’২৪ পরবর্তী) ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে পর্যালোচনাঃ
বাংলাদেশের একটি শহরের ধর্মীয় মৌলবাদীরা ঘোষণা করেছিল যে তরুণীরা আর ফুটবল খেলতে পারবে না। অন্য একটি শহরে, তারা পুলিশকে বাধ্য করেছে যে একজন পুরুষকে মুক্তি দিতে যে জনসমক্ষে একজন মহিলাকে চুল না ঢেকে রাখার জন্য হয়রানি করেছিল, তারপর তাকে ফুলের মালা পরিয়ে দেয়।
এরপর আরও ভয়ংকর এবং স্পর্শকাতর আহ্বান!
ঢাকায় এক সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে,এই সরকার ইসলামকে অসম্মানকারী কাউকে মৃত্যুদণ্ড না দেয়, তাহলে তারা নিজের হাতেই (সেই সব অসম্মানকারীর) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে।
বাংলাদেশ যখন তার গণতন্ত্র পুনর্গঠনের জন্য একটি নতুন ভবিষ্যৎ তৈরির চেষ্টা করছে, তখন দেশের ধর্মনিরপেক্ষ মুখোশের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে লুকিয়ে থাকা ইসলামী চরমপন্থার ধারাটি ক্রমশ ফুটে উঠছে।
ইসলামপন্থী নেতারা জোর দিয়ে বলছেন যে বাংলাদেশে এমন একটি “ইসলামী সরকার” প্রতিষ্ঠা করা হোক যা ইসলামকে অসম্মানকারীদের শাস্তি দেবে এবং “শালীনতা” বলবৎ করবে – যা ধর্মতান্ত্রিক শাসনের পথ তৈরি করেছে।
সংবিধানের সম্ভাব্য সংশোধনী প্রণয়নের সাথে জড়িত রাজনৈতিক বর্ণালীর কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে এই দলিলটি বাংলাদেশের একটি সংজ্ঞায়িত বৈশিষ্ট্য হিসাবে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেবে, এটিকে বহুত্ববাদ দ্বারা প্রতিস্থাপন করবে এবং দেশকে আরও ধর্মীয় লাইনে পুনর্নির্মাণ করবে। নিউইয়র্ক টাইমস। – ৩.৪.২৫ ইং
গণমাধ্যমের রিপোর্টঃ
নিউইয়র্ক টাইমস একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংবিধানের মূলনীতি থেকে ধর্মনিরপেক্ষতাকে সরিয়ে সেখানে “বহুত্ববাদ” অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
বিস্তারিতভাবে, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে, সংবিধানের চারটি মূলনীতির মধ্যে তিনটি – জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, এবং ধর্মনিরপেক্ষতা – বাদ দিয়ে শুধু গণতন্ত্রকে রাখা হয়েছে। এর পরিবর্তে, নতুন পাঁচটি মূলনীতি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে: সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্র।