জুলাই ঘোষনা পত্র আসলে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান কি করবেন? -জনজিজ্ঞাসা

জুলাই ঘোষনা পত্র আসলে বাংলাদেশের সংবিধান বাতিল হবে।বঙ্গভবন থেকে রাস্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু সাহেব কে বের করে সরাসরি কি কারাগারে নিয়ে যাওয়া হবে?নাকি বাংলাদেশ ২০২৫ সালে এমন সব অপ্রত্যাশিত অনিয়মের দিকে হাটবে?

বিষয়টি নিয়ে এখনই গুরুত্বের সঙ্গে সেনাপ্রধানকে বিবেচনা করতে হচ্ছে। কারণ রাস্ট্রপতি পদ না থাকা মানে- সেনাপ্রধানকে পাল্টে ফেলা।

 

সশস্ত্র বাহিনীর সকল পদে ব্যাপকভাবে রদবদল আনা। যে ভাবে বাংলাদেশের সকল বেসামরিক প্রশাসনে পদে ব্যাপক রদবদল ঘটানো হয়েছে। সেটা ঘটিয়ে ফেলা। তখন কি এই বিপ্লব থামবে? নাকি এই বিপ্লব দীর্ঘস্থায়ী হবে? তখন কি প্রকাশ্যে অনেকের রাজপথে বিচারের দাবি উঠবে?

নাকি ক্যান্টনমেন্টের ভিতরেও অনেক অনেক রক্তপাতের সুচনা করবে?  এই সকল বিবেচনা সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারুজ্জামানকে ভাবতে বাধ্য করছে বলে বিজ্ঞজনেরা মনে করছেন।

 

আগস্ট ২৪’ থেকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বারবার বলে আসছেন, ” সেনাবাহিনীকে তিনি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখতে চান । দ্রুত সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে চান।”

পরিস্থিতি অনেকটা এমন যে ,”এই সরকারের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ নেই।পাশাপাশি দেশের আইন শৃঙ্খলা ক্রমে অবনতির দিকে চলে যাচ্ছে ।”

 সে প্রেক্ষাপটে সেনাপ্রধান সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে আনতে পারবেন – সে সম্ভাবনাও দ্যাখা যাচ্ছে না।

দেশের সময় সচেতন মানুষেরা সহজেই উপলব্ধি করতে পারছেন, ” বাংলাদেশের সংবিধান বাতিল হয়ে গেলে – রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান মহাবিপদে পড়বেন। সেই সাথে মহা অনিশ্চয়তায় পড়বে বাংলাদেশ নামের ১৯৭১ সালে স্বাধীন হওয়া রাষ্ট্রটি ।

 

এখন মহামান্য রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সামনে একটাই পথ খলা আছে – 

বাংলাদেশের সংবিধানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা [Declaration of emergency] ।

 

জরুরি অবস্থা [Declaration of emergency] সম্পর্কিত বাংলাদেশের সংবিধানে স্পষ্টবার্তাঃ 

 

সংবিধানে ১৪১ এর (ক) এর ৩ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে – “রাষ্ট্রপতি প্রতি স্বাক্ষর ছাড়াও ( প্রধানমন্ত্রীর প্রতি স্বাক্ষর ছাড়াও) জরুরী অবস্থা ঘোষণা করিতে পারিবেন। 

 

 (৩) যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের বিপদ আসন্ন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে প্রকৃত যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগ সংঘটিত হইবার পূর্বে তিনি অনুরূপ যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের জন্য বাংলাদেশ বা উহার যে কোন অংশের নিরাপত্তা বিপন্ন বলিয়া জরুরী অবস্থা ঘোষণা করিতে পারিবেন।

 

১৪১ এর (ক) এর ৩ অনুচ্ছেদ এ মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে জরুরী অবস্থা ঘোষণার এই যে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে-যেখানে তিনি জরুরী অবস্থা জারি করতে পারেন ।

একটি বিষয় পরিস্কার ভাবে প্রতীয়মান যে – ” বাংলাদেশে এখন কোন প্রধানমন্ত্রী নাই । আর সত্যিকার অর্থে প্রধান উপদেষ্টার পদটি সাংবিধানিকভাবে কতটা বৈধ ? সেটা ইতিমধ্যে প্রশ্নবানে বিদ্ধ !