নিউজ ডেস্কঃ
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত বিমান হামলায় দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি বলেই মূল্যায়ন করছে। হামলার ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অগ্রগতি কিছুটা থমকে গেলেও সামগ্রিক সক্ষমতায় বড় কোনো ক্ষতি হয়নি ।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই মূল্যায়ন প্রস্তুত করেছে পেন্টাগনের গোয়েন্দা শাখা ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি—ডিআইএ)। ইরানে চালানো মার্কিন অভিযানের পর ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) তত্ত্বাবধানে যুদ্ধ-পরবর্তী তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে এই মূল্যায়ন।
মূল্যায়নে যুক্ত থাকা দুজন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে সিএনএন জানায়, হামলায় ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস হয়নি এবং বহু সেন্ট্রিফিউজ এখনও অক্ষত রয়েছে। একটি সূত্র জানায়, হামলার আগেই এসব ইউরেনিয়ামের বড় একটি অংশ নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়, ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সীমিত থাকে।
এদিকে, রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত এখনও বেশিরভাগই মাটির গভীরে সুরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। তবে ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি একান্তই শান্তিপূর্ণ, বিশেষত জ্বালানি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো হামলার প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তারা ইরানের অভ্যন্তর থেকেও বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে সঠিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণ করা যায়।
তবে হোয়াইট হাউজ এই গোয়েন্দা মূল্যায়নকে ‘ভুল ও বিভ্রান্তিকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, এটি একটি ‘অতি গোপনীয়’ মূল্যায়ন যা জনসমক্ষে প্রকাশযোগ্য নয়।
আন্তর্জাতিক অস্ত্র বিশ্লেষক এবং মিডলবেরি ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের অধ্যাপক জেফরি লুইস স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে জানান, এই হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে— এমনটি ভাবার কোনো যুক্তি নেই। তিনি সিএনএনের মূল্যায়নের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।তথ্য সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স /অনলাইন।