দেশে নারী ও কন্যাশিশুর নির্যাতন ও ধর্ষণ নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মক্ষেত্র,
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সর্বত্রই এর ভয়াবহ শিকার হচ্ছেন কন্যাশিশুসহ সকল বয়সী নারী, এই অবস্থায় উদ্বিগ্ন
নাগরিক হিসাবে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-খুলনা, টিআইবি আজ ১৬ মার্চ ২০২৫, সকাল ১১
টায়, নগরীর গোলক মণি শিশু পার্কের (প্রেস ক্লাবের সন্নিকটে) সামনে ্#৩৯;নারী ও শিশু ধর্ষণ ও
সহিংসতা: বিচার চাই, নির্মূল র্ক#৩৯; এর দাবীতে মানববন্ধনের আয়োজন করে। মানব্বন্ধনে বক্তারা বলেন
এই অবস্থার পরিবর্তনে রাষ্ট্রকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে, কঠোর হতে হবে। সনাক সদস্য এ্যাড.
অশোক কুমার সাহা বলেন ্#৩৯; ৯০ দিনের মধ্যে ধর্ষণের মতো অপরাধের বিচার নিষ্পন্ন করতে হব্#ে৩৯;। সনাক
সদস্য শামীমা সুলতানা শীলু বলেন্#৩৯; ধর্ষণ থেকে ৭/৮ বছরের শিশুরাও রক্ষা পাচ্ছে না, এসবের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি
নিশ্চিত করতে হব্#ে৩৯;। সনাক খুলনা এর সহ-সভাপতি রীনা পারভিন বলেন ্#৩৯;কন্যা শিশু ও নারীদের নিরাপত্তার
নিশ্চয়তা দিতে হবে। এই ব্যাত্যয় হলে আমরা রাস্তায় নেমে কন্যা শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা
পর্যন্ত ঘরে ফিরবো ন্#া৩৯;। অন্যদিকে কন্যা শিশু ও নারী নিপীড়ন ও ধর্ষণের জন্য সুশাসনএর অভাবকেই প্রাধানত
দায়ী করেন টিআইবি এর ক্লাস্টার কোঅর্ডিনেটর ফিরোজ উদ্দিন। সব শেষে সনাক খুলনা এর সভাপতি
অধ্যাপিকা রমা রহমান সমাজের সকল মানুষের অংশগ্রহণ ও সচতেনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই ভয়ঙ্কর ব্যাধির
বিরদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহব্বান জানান। চলমান অবস্থার ভয়াবহতা তুলে ধরেন, নাগরিকদের ভয় ও আতঙ্কের
সাথে বসবাস করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সারা দেশে ধর্ষণ, কন্যা শিশু ও নারী নির্যাতন ও হত্যার নিন্দা
জানান এবং ন্যায় বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করার জোর
দাবী করেন। একই সাথে টিআইবি এর ১১ দফা দাবী তুলে ধরেন। মানব্বন্ধনে সচেতন নাগরিক কমিটি
(সনাক) এর সদস্য, ইয়েস, এসিজি সদস্য এবং টিআইবি এর প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জেন্ডার সমতা, নারীর ক্ষমতায়নে সনাক,
ইয়েস, এসিজি ও টিআইবি নিম্নলিখিত উত্থাপিত ১১ দফা দাবিসমূহ নিম্নরূপ-
১. বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও “নতুন বাংলাদেশ”- এর মূল চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে নারী ও শিশু
ধর্ষণ এবং সব ধরনের যৌন নির্যাতন, সহিংসতা ও বৈষম্য প্রতিহত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং
এসব অপরাধের সাথে জড়িতদের দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি অপরাধের
শিকার পরিবারকে সকল প্রকার সহায়তা প্রদান করা।
২. সকল ক্ষেত্রে ও পর্যায়ে নারীর অধিকার নিশ্চিত করা এবং এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন সংস্কার ও বিদ্যমান
আইনসমূহের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
৩. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রসহ সকল পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে নারীর নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করা।
৪. সকল রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গসংগঠন, পেশাজীবী সংস্থা, সকল প্রকার সরকারি-বেসরকারি
প্রতিষ্ঠানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নারী পুরুষের সমঅধিকার ও সমমর্যাদার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার
ঘোষণাসহ চর্চা প্রতিষ্ঠার সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
৫. টেকসই উন্নয়ন অর্জনের কর্মপরিকল্পনায় অভীষ্ট-৫ (জেন্ডার সমতা) ও ১৬ (শান্তি, ন্যায়বিচার ও কার্যকর
প্রতিষ্ঠান) কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন বন্ধের পূর্বশর্ত হিসেবে
দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণসহ আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা ও নানা অজুহাতে যত্রতত্র
হেনস্থা রোধে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি রাষ্ট্রকে আরো সক্রিয় ভূমিকা
পালন।
৬. নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সকল প্রকার নারী অধিকার হরণের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বপ্রাপ্ত
সকল প্রতিষ্ঠানকে Ñ বিশেষ কওে প্রশাসন, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতি
প্রতিরোধ, শুদ্ধাচার, জবাবদিহিতা ও সার্বিক সুশাসন নিশ্চিত করা।
৭. জেন্ডার সমতা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে নারীর অভিগম্যতা নিশ্চিত,
ইন্টারনেট ও প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস সুলভ করা এবং বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
অনলাইনে সহিংসতা ও নির্যাতন থেকে নারীর সুরক্ষা নিশ্চিতে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিশেষায়িত জাতীয়
কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা।
৮. যে সকল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পরিবারে, কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষাঙ্গনে বা সমাজে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ্যে
কাজ করছেনÑতাদের উৎসাহিত, সঠিক প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও সুরক্ষা প্রদান
করা।
৯. মহামান্য উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে সকল প্রতিষ্ঠানে অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখার
নিশ্চয়তাসহ নারীবান্ধব অভিযোগ প্রদান ও নিরসনের ব্যবস্থা থাকতে হবে; নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও যৌন
হয়রানি বন্ধে ব্যক্তির রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক অবস্থান, মর্যাদা ও প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের
কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি করা।
১০. নারীর প্রতি সকল ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ ও নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিতে সাধারণ
জনগণের ইতিবাচক মানসিকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কার্যকর প্রচারমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা।
১১. জাতীয় হেল্পলাইন ও অভিযোগ জানানোর হটলাইন নম্বরগুলোর প্রচার ও কার্যকরতা বৃদ্ধি। খবরঃ বিজ্ঞপ্তির