।। সাংবাদিক আইয়ুব ভুইয়া।।
কর্নেল ফারুকের এই ছবি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের। এ পোশাকেই সেদিন ইতিহাসের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেয় সে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর সংগে অভিযুক্ত এবং ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর খালেদ মোশারফের সাথে নিহত কর্নেল নাজমুল হুদার স্ত্রী নীলুফার হুদা এই খুনি সম্পর্কে লিখেছেন, “ ১৯৭১ সালে যশোর মুক্ত হওয়ার পর ফারুক ( মেজর সৈয়দ ফারুক রহমান, বঙ্গবন্ধুর খুনি) যখন হুদার বাহিনীর সংগে যোগ দেয়, তখন থেকেই হুদা তাকে সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করেন।প্রায়ই আমাকে বলতেন, ফারুক যদি পালিয়েই আসে, তাহলে তার সঙ্গে এত জিনিসপত্র কেন? ফারুক দেশ স্বাধীন হওয়ার কিছু আগে মধ্যপ্রাচ্যের কোন একটা দেশ থেকে প্রথম কলকাতায় আসে। হুদা আমাকে বলতেন, ফারুক একটা বিতর্কিত চরিত্রের। তার কথাবার্তা থেকে শুরু করে হাবভাব সবকিছুই হুদার কাছে অদ্ভুত লাগত। হুদা আমাকে বলতেন , দেখ মঞ্জুর ( এম এ মন্জুর , পরে মেজর জেনারেল ও নিহত) ভাই দুই বাচ্চাসহ পাকিস্তান থেকে এক কাপড়ে পালিয়ে এসেছে। কোন কিছুই সঙ্গে নিয়ে আসেনি। আর ফারুক প্রচুর জিনিসপত্র নিয়ে এসেছে। একারণেই তার ব্যাপারে হুদার সন্দেহ হয়েছিল। তার সন্দেহটাই পরে সত্যি হলো। সে পাকিস্তানি এজেন্ট ছিল কি না আমি জানিনা, তবে এজেন্ট ছিল কারও, কোনো না কোনো দেশের।” ( কর্নেল হুদা ও আমার যুদ্ধ।লেখক: নীলুফার হুদা।প্রথমা প্রকাশন।) ছবি: সংগৃহীত। [ সদস্য-জাতীয় প্রেস ক্লাব]