প্রফুল্লচন্দ্র রায় ছিলেন বিজ্ঞানী বেশে বিপ্লবীঃ আলোচনা সভায় বক্তারা 

প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের মূল মন্ত্র ছিল তার দেশসেবা। ব্রিটিশ গোয়েন্দা দপ্তরে
প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের নাম লেখা ছিল ্#৩৯;বিজ্ঞানী বেশে বিপ্লব্#ী৩৯;। স্বদেশি আন্দোলনের
প্রথম পর্যায় থেকেই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। ১৯০৫ এ বঙ্গভঙ্গের
ঘোষণাকে কেন্দ্র করে যখন বাংলায় বিপ্লবী আন্দোলন সক্রিয় হয়ে ওঠে, তখন
গোপনে তিনি বিপ্লবীদের অর্থ সাহায্য করতেন। বাংলায় বিজ্ঞান চর্চার সুফল
পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি গণমানুষের মাঝে। তার জীবনের সবটুকুু জুড়েই
ছিল এদেশের মানুষ। বলতেন, ্#৩৯;আমার সমস্ত কিছুর কেন্দ্রবিন্দুই এদেশের মানুষ ভালো
থাকবে বলে।্#৩৯; আমরা আজ যে সমবায়ের কথা বলি তার জনক ছিলেন আচার্য প্রফুল্ল
চন্দ্র রায়। রবীন্দ্রনাথ তার সম্পর্কে লিখেছিলেন, ্#৩৯;সংসারে জ্ঞানী তপস্বী দুর্লভ নয়,
কিন্তু মানুষের মনের মধ্যে চরিত্রে ক্রিয়া প্রভাবে তাকে ক্রিয়াবান করতে পারে এমন
মনীষী সংসারে কদাচ দেখতে পাওয়া যায়্#৩৯;। এভাবে বললেন গুণীজন স্মৃতি পরিষদের
আলোচনায় বক্তারা।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় গুণীজন স্মৃতি পরিষদের আয়োজনে মহীয়সী রোকেয়া
পাঠাগার মিলনায়তনে বিজ্ঞানী প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের ১৬১ তম জন্মবার্ষিকী
উদ্ধসঢ়;যাপন উপলক্ষে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র ও তাঁর জনহিতকর কর্মকা- নিয়ে
আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি এ্যাডঃ
শামীমা সুলতানা শীলু।্ধসঢ়; সঞ্চালনা করেন লেখক ও সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ অসিতবরণ ঘোষ, পিসি কলেজের সাবেক
অধ্যক্ষ মুজিবর রহমান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার মোহাম্মদ
মাজহারুল হান্নান, গুণীজন স্মৃতি পরিষদের উপদেষ্টা শ্যামল সিংহ রায়,মহানগর
ওয়ার্কার্স পাটির মফিদুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন দিলু, সিপিবি নেতা এস
এম চন্দন,খুলনা উন্নয়ন ফোরামের কো-চেয়ারম্যান ডাঃ সৈয়দ মোসাদ্দেক হোসেন
বাবলু, কবি সৈয়দ আলী হাকিম, এপিসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান
শিক্ষক ফাহইমদা সুলতানা,খুলনা পোল্ট্রি ফিস ফিড শিল্প মালিক সমিতির

মহাসচিব এস এম সোহরাব হোসেন, ছাত্র ইউনিয়নের মহানগর কমিটি সাধারন
সম্পাদক জয় বৈদ্য, দীপ কুমার বৈদ্য, এম এম হাসান, মোসাম্মাৎ আনোয়ারা পারভীন,
মুক্তা জামান, দৌলতুন্নেছা কিন্ডার গার্টেনের প্রিন্সিপ্যাল দিরারা নাসরিন,
মাহমুদা খাতুন বদরুণ নাহার, আনোয়ারা খাতুন, সুমাইয়া আক্তার,খুলনা আর্ট
কলেজের পরিচালক বিধান চন্দ্র রায়। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক
সাংবাদিক মহেন্দ্রনাথ সেন।

বক্তারা বলেন,বর্তমান যে খুলনা টেক্সটাইল মিলস এটি তার হাতেই গড়া। তরুণদের
ব্যবসা করতে দারুণভাবে উদ্বুব্ধ করতেন তিনি। বলতেন ্#৩৯;লক্ষ্য স্থির করো। ঝুঁকি নাও।
কেবল মুখস্ত বিদ্যার জন্য নয়, পড়ো কারিগরি শিক্ষা অর্জনের জন্য। চাকরি না করে
ব্যবসা করো। একটা সমগ্র জাতি শুধুমাত্র কেরানী হয়ে টিকে থাকতে পারে না।্#৩৯;
বক্তারা বলেন, সবার আগে ছিল তার মানবতাবোধ। ১৯২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় সমগ্র
বাংলা ঘুরে ঘুরে অর্থসংগ্রহ এবং ত্রাণকার্য করেছিলেন নিজে। শুধু ১৯২২ নয়,
তার আগের বছর চতুর্থ বার ইংল্যান্ড ভ্রমণ শেষে তিনি দেশে ফিরে খুলনার সুন্দরবন
অঞ্চলে দুর্ভিক্ষের খবর পেয়েই ছুটে গিয়েছিলেন।
বার্তাপ্রেরক-
মহেন্দ্রনাথ সেন